ত্রিপুরায় প্রত্যাবর্তন পদ্মের : উত্থান ত্রিপামোথার
আমার বাংলা নিজস্ব প্রতিনিধি : ২০২৩ ত্রিপুরা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ। ত্রিপুরায় প্রত্যাবর্তন পদ্মের। ফল প্রকাশের আগে বাম-কংগ্রেস ভোটের ফল নিয়ে আশাবাদী হলেও ইভিএম খোলার পর দেখা যায়, সরকার গড়ার ধারে-কাছে নেই বাম-কংগ্রেস জোট। সর্বশেষ খবরে ভোটের ফলাফলের নিরিখে দেখা গিয়েছে,বিজেপির পক্ষে জনমত। ফের আরও একবার এককভাবে ক্ষমতায় আসীন হতে চলেছে গেরুয়া শিবির ৷ ত্রিপুরা ফলাফলের হিসাব একনজর দেখে নেওয়া যাক। বিজেপি ৩৪টি আসনে জয়ের পথে । বাম-কংগ্রেস জোট ১৪টি আসনে জয় পেতে পারে। অন্যদিকে ত্রিপামোথা ১২টি আসনে জয়ের পথে । তৃণমূল কোনও আসন পাচ্ছে না বলে ইঙ্গিত।
তবে বিজেপির এই জয়ে খুব একটা খুশি নন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা ৷ বিজেপির পক্ষ থেকে প্রচারে বলা হয়েছিল, ভোটের ফলে গেরুয়া সুনামি দেখা যাবে। ত্রিপুরার ভোটের ফল প্রসঙ্গে মানিক সাহার প্রতিক্রিয়া, “আমরা যতটা আশা করেছিলাম, ততটা ভাল ফল হয়নি ৷ আমরা পরবর্তীতে এই ফলের কারণ খুঁজে দেখব।” শুরুর দিকে পিছিয়ে থাকলেও বেলা বাড়তেই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করে গেরুয়া শিবির ৷
ভোটের ফল প্রকাশ হতেই দেখা যায়, সরকার গড়ার মতো অবস্থায় নেই বাম ও কংগ্রেস জোট শিবির ৷ ত্রিপুরায় বামেদের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, “আমি জানতাম বাম-কংগ্রেস ভোটের ভাল ফল করতে পারবেন না ৷ এর পিছনে রাজনৈতিক কারণও রয়েছে ৷ আদি কংগ্রেসের সমর্থকরা কখনই বামেদের ভোট দিতে পারবে না ৷ তা এটা ওদের মতাদর্শে আঘাত করে ৷ বামেদের ক্ষেত্রেও একই জিনিস ৷ সেই কারণে ভোট হয়নি ৷ এই ফল দেখে তাই মনে হচ্ছে ৷”
ত্রিপুরায় রাজনৈতিক বৃত্তে উত্থান ত্রিপামোথার। রাজ্যের ১২ টি আসনে জয়ের দোরগোড়ায় এই দল। রাজপরিবারের বংশধর প্রদ্যোত বিক্রম কিশোর মানিক্য। ত্রিপুরার রাজপ্রাসাদের ঘেরাটোপ থেকে তিনি ত্রিপুরার মাটিতে মিশে গিয়েছেন জনতার মাঝে। ত্রিপুরার বিধানসভা নির্বাচনে “একতা”-র ডাক দিয়েছিলেন মহারাজ।
রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব বলতে রাজি নন তিনি নিজেকে। তাঁর মুখেই শোনা গিয়েছে, ” আমি রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নই। ত্রিপুরাবাসীদের জীবন উন্নত করাই আমার লক্ষ্য। নিজের কোনও স্বার্থ চরিতার্থ করতে ভোটযুদ্ধে নামিনি। আমি পলিটিশিয়ান নই বলেই এত মানুষের সমর্থন পেয়েছি। আজকাল রাজনীতিকদের আর কেউ বিশ্বাস করে না!”
(ছবি: সংগৃহীত)

